শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় নানা আয়োজনে এনটিভির ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন এনটিভির ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের ফুলেল শুভেচ্ছা তৃণমূলে খেলাধুলার প্রসারে তারেক রহমানের উদ্যোগ প্রশংসনীয়: শহিদুজ্জামান কাকন অ্যাম্বুলেন্সের অপ্রয়োজনীয় সাইরেন: জীবন বাঁচানোর সংকেত, নাকি শব্দদূষণের নীরব সন্ত্রাস? মাগুরার শ্রীপুরে ক্রীড়া সামগ্রী-কৃষি উপকরণ- গাছ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান সাংবাদিক এনায়েত শাওনকে হুমকির ঘটনায় বিপিজেএফের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও উদ্বেগ এইচএসসি পরীক্ষা–২০২৬ উপলক্ষে সকল পরীক্ষার্থীর প্রতি বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা মাগুরায় দেড় কোটি টাকার কেলেঙ্কারি কাণ্ডে ৮ মাস অপসারিত অধ্যক্ষ শ্যামল বেতন তুলছেন নিয়মিত! মাগুরায় সংসদ সদস্য কতৃক শিক্ষা উপকরণ, ক্রীড়া সামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ মন্ত্রীর আসনে ভারতের রাষ্ট্রদূত: বাংলাদেশে তার প্রোটোকল কি বদলাবে

অ্যাম্বুলেন্সের অপ্রয়োজনীয় সাইরেন: জীবন বাঁচানোর সংকেত, নাকি শব্দদূষণের নীরব সন্ত্রাস?

সংবাদদাতা / ৫৩ বার ভিউ
সময়ঃ শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

বিশেষ প্রতিবেদন।

বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী (বাহার)

ব্যস্ত নগরজীবনে যানজট যেন নিত্যদিনের বাস্তবতা। ঠিক সেই সময় হঠাৎ বাতাস চিরে ভেসে আসে অ্যাম্বুলেন্সের কর্কশ সাইরেন। মুহূর্তেই সবার মনে উদ্বেগ তৈরি হয়—হয়তো কোনো মুমূর্ষু রোগী মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই চালকেরা তড়িঘড়ি পথ ছেড়ে দেন, পথচারীরাও সরে দাঁড়ান।

কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ক্ষেত্রে এই সাইরেন প্রকৃত জরুরি প্রয়োজনে নয়; বরং যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জীবন বাঁচানোর প্রতীক হয়ে ওঠা এই জরুরি সংকেতের অপব্যবহার এখন শব্দদূষণ, জনভোগান্তি এবং সামাজিক অবিশ্বাসের নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শব্দদূষণের মারাত্মক উৎস

অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন সাধারণত ১০০ থেকে ১২০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ উৎপন্ন করতে পারে। এত উচ্চমাত্রার শব্দ দীর্ঘ সময় মানুষের কানে পৌঁছালে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, আকস্মিক তীব্র শব্দ মানসিক চাপ, উদ্বেগ, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ এবং আতঙ্কের মতো শারীরিক প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করতে পারে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন ট্রাফিক পুলিশ, রিকশাচালক, পথচারী, গণপরিবহনের চালক এবং নিয়মিত সড়কে কর্মরত মানুষরা।

রোগীর জন্যও হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ

অনেকেই মনে করেন, সাইরেন যত বেশি বাজবে রোগীর তত বেশি উপকার হবে। বাস্তবে বিষয়টি সব সময় তেমন নয়।

অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় সাইরেন রোগীর মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে হৃদরোগ, স্ট্রোক, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা গুরুতর আহত রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শব্দ হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই প্রকৃত প্রয়োজন ছাড়া সাইরেন ব্যবহার চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও যুক্তিসঙ্গত নয়।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি—মানুষের বিশ্বাস হারিয়ে যাওয়া

যখন মানুষ বারবার দেখে খালি অ্যাম্বুলেন্স বা অজরুরি অবস্থাতেও সাইরেন বাজিয়ে যানজট পার হওয়া হচ্ছে, তখন ধীরে ধীরে এই সংকেতের প্রতি মানুষের বিশ্বাস কমে যায়।

ফলে একদিন সত্যিকার অর্থেই যখন কোনো মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ছুটে যাবে, তখন অনেকেই সেটিকে গুরুত্ব নাও দিতে পারেন। এই অবহেলা একটি মূল্যবান প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।

কেন হচ্ছে এই অপব্যবহার?

– যানজট দ্রুত অতিক্রম করার প্রবণতা।
– সাইরেন ব্যবহারে কার্যকর তদারকির অভাব।
– আইন প্রয়োগে দুর্বলতা।
– কিছু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনায় জবাবদিহির অভাব।
– চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব।

এখনই যা করা জরুরি

কঠোর আইন প্রয়োগ: জরুরি রোগী ছাড়া সাইরেন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। অপব্যবহারের ক্ষেত্রে জরিমানা, লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি: জিপিএস ট্র্যাকিং, ডিজিটাল লগ এবং স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সাইরেন ব্যবহারের যথার্থতা পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।

চালকদের প্রশিক্ষণ: অ্যাম্বুলেন্স চালকদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা শিক্ষা এবং নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

জনসচেতনতা: গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে জানাতে হবে—সাইরেন কোনো বিশেষ সুবিধা পাওয়ার মাধ্যম নয়; এটি কেবল জীবন রক্ষার জরুরি সংকেত।

উপসংহার

অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন একটি শব্দ নয়; এটি একটি বিপন্ন জীবনের আর্তনাদ। এই সংকেতের প্রতি মানুষের যে সম্মান ও বিশ্বাস রয়েছে, তা কোনোভাবেই অপব্যবহারের মাধ্যমে নষ্ট করা উচিত নয়।

আজ যদি আমরা সাইরেনকে যানজট এড়ানোর হাতিয়ার বানিয়ে ফেলি, তবে আগামীকাল সত্যিকারের জরুরি মুহূর্তে হয়তো সেই সাইরেন আর মানুষের হৃদয় স্পর্শ করবে না। তাই জীবন বাঁচানোর এই পবিত্র সংকেতের মর্যাদা রক্ষায় সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, চালক এবং সাধারণ নাগরিক—সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

মনে রাখতে হবে—সাইরেনের প্রতিটি শব্দ একটি জীবনের আবেদন। সেই আবেদন যেন কখনো অবিশ্বাসের শব্দে হারিয়ে না যায়।এই লেখাটি জাতীয় দৈনিক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা ম্যাগাজিনে বিশেষ ফিচার হিসেবে প্রকাশের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]