সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় জেলা প্রশাসক কতৃক উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পূর্বাচলে রহস্যময় বাড়িতে অভিযান – মাদককাণ্ডে বারবার উঠে আসছে এশিয়াটিক গ্রুপের নাম! মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়: ২০২৮ সালে মার্কিন রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোন পথে? গুলঞ্চের লতা ও কাছের মানুষের শত্রুতা আমার দেশ-এর প্রেসে বোমা নিক্ষেপের ঘটনায় বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের নিন্দা Dhaka University’s Ranking Decline: Why DUCSU Also Failed* *— Professor M. A. Barnik ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনমন: ডাকসুর উদ্যোগ কেন কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারছে না* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক দৈনিক নয়া দিগন্তের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের ফুলেল শুভেচ্ছা বাংলাভাষায় ছবি থেকে লেখা শনাক্ত করার প্রযুক্তি (OCR) ব্যবহার সমস্যা—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক Challenges in Using Optical Character Recognition (OCR) for the Bengali Language—-Professor M. A. Barnik

গুলঞ্চের লতা ও কাছের মানুষের শত্রুতা

সংবাদদাতা / ১২ বার ভিউ
সময়ঃ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ন

প্রকৃতির শিক্ষা: সব ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই শুভাকাঙ্ক্ষী নয়

বিল্লাল হোসেন বাহার
দৈনিক আলোঃ

প্রকৃতি আমাদের শেখায়, পরম যত্নে জড়িয়ে থাকা সব লতাই যেমন বৃক্ষের বন্ধু নয়, তেমনি জীবনের সব ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও শুভাকাঙ্ক্ষী নয়। গুলঞ্চের লতা যেমন বাহ্যিক সৌন্দর্যের আড়ালে একটি আস্ত বৃক্ষকে আচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে, তেমনি কাছের মানুষের শত্রুতাও কখনো কখনো মানুষের জীবনকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে পারে।

তাই জীবনে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করার আগে, পরম মায়া ও ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরার আড়ালে কোনো ‘গুলঞ্চের মরণফাঁস’ লুকিয়ে আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। সম্পর্ক হোক বিশ্বাসের, ভালোবাসার ও আন্তরিকতার; কিন্তু তা যেন কখনো অন্ধবিশ্বাসের কারণ না হয়।

শ্বাসরোধকারী নীরব আঘাত

একটি গুলঞ্চলতা যখন কোনো গাছকে পেঁচিয়ে ধরে, তখন সে গাছটিকে এক রাতেই ধ্বংস করে দেয় না। এটি অত্যন্ত ধীরগতির একটি প্রক্রিয়া। লতাটি যত মোটা ও শক্তিশালী হতে থাকে, গাছটির ওপর তার চাপও তত বাড়তে থাকে। একসময় গাছটি নিজের স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ হারায়।

কাছের মানুষের শত্রুতাও অনেকটা এ রকম। এটি কোনো আকস্মিক আঘাত নয়; বরং এক ধরনের মানসিক ও সামাজিক ‘স্লো পয়জনিং’। ক্রমাগত অবমূল্যায়ন, আড়ালে সমালোচনা, বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ক্ষতি করা এবং আত্মবিশ্বাসকে একটু একটু করে চূর্ণ করে দেওয়া—এভাবেই কাছের কিছু মানুষ অন্যের জীবনকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিতে পারে।

সব আঘাত দৃশ্যমান হয় না। কিছু আঘাত মানুষের মনে জমে থাকে, আত্মবিশ্বাসকে নষ্ট করে এবং ধীরে ধীরে জীবনের স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করে। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে একজন মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন।

নির্ভরশীলতার আড়ালে ক্ষতির ফাঁদ

গুলঞ্চলতা যেমন আশ্রয়ের জন্য অন্য একটি গাছের ওপর নির্ভর করে, তেমনি কিছু মানুষ আমাদের জীবনে আসে গভীর নির্ভরশীলতা নিয়ে। তারা আমাদের ভালোবাসা, বিশ্বাস, সহানুভূতি ও সহযোগিতার ওপর ভর করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে।

আমরা ভাবি, তারা হয়তো আমাদের জীবনেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের প্রতি আন্তরিকতা দেখাই, বিপদে পাশে দাঁড়াই এবং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করি।

কিন্তু কখনো কখনো সেই বিশ্বাস ও সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে পারে। আমাদের দুর্বলতা, আবেগ ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনে তারা এমনভাবে আচরণ করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

যেমন একটি লতা ধীরে ধীরে গাছকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তেমনি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ও অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কও মানুষের স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক শক্তিকে সীমাবদ্ধ করে দিতে পারে।

দূরের শত্রু নয়, কাছের মানুষই কখনো বড় বিপদ

দূরের শত্রুকে চেনা তুলনামূলকভাবে সহজ। তার আঘাত সামনে থেকে আসে, তাই আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যায়। কিন্তু যে মানুষ ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও বন্ধুত্বের আড়ালে ক্ষতিকর আচরণ করে, তাকে চেনা অনেক কঠিন।

তারা মুখে পরম হিতৈষী, কিন্তু আচরণে থাকতে পারে ঈর্ষা, প্রতিযোগিতা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রভাব। আপনার সাফল্যের অংশীদার হতে চাইবে, আপনার খুব কাছে থাকবে, অথচ সুযোগ বুঝে এমন আচরণ করতে পারে, যা আপনার অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে।

তবে প্রত্যেক ঘনিষ্ঠ মানুষের আচরণকে সন্দেহের চোখে দেখা উচিত নয়। সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি, মতপার্থক্য কিংবা সাময়িক বিরোধও থাকতে পারে। তাই কাউকে শত্রু মনে করার আগে তার আচরণ, উদ্দেশ্য এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সম্পর্কের সৌন্দর্য বিশ্বাসে, নিরাপত্তা সচেতনতায়

মানুষ সামাজিক জীব। পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও পরিচিতজনদের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্য দিয়েই জীবনের পথচলা সহজ হয়। ভালো সম্পর্ক মানুষকে সাহস দেয়, মানসিক শক্তি জোগায় এবং বিপদের সময় আশ্রয় হয়ে দাঁড়ায়।

কিন্তু সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্ধবিশ্বাস কখনো কখনো বিপদের কারণ হতে পারে। তাই কাউকে বিশ্বাস করার পাশাপাশি নিজের বিবেচনাবোধ, আত্মসম্মান ও ব্যক্তিগত সীমারেখা বজায় রাখা জরুরি।

কেউ যদি বারবার আপনার আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়, আপনার সাফল্যকে ছোট করে দেখে, ব্যক্তিগত দুর্বলতার সুযোগ নেয় কিংবা আপনাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।

প্রয়োজনে তার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা, নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা এবং বিশ্বস্ত মানুষের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

মূল কথা: আবেগ নয়, প্রজ্ঞাই হোক পথনির্দেশক

কাছের মানুষের শত্রুতা কিংবা ক্ষতিকর আচরণ জীবনের একটি বড় পরীক্ষা। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আবেগের বশে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকৃতির শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বাহ্যিক সৌন্দর্য কিংবা ঘনিষ্ঠতা সব সময় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না। একটি লতা যেমন গাছের আশ্রয় নিয়ে ধীরে ধীরে তাকে আচ্ছন্ন করতে পারে, তেমনি কিছু সম্পর্কও মানুষের জীবনে অজান্তে চাপ ও সংকট তৈরি করতে পারে।

তাই সম্পর্ক গড়তে হবে বিশ্বাসের ভিত্তিতে, কিন্তু সেই বিশ্বাসের সঙ্গে থাকতে হবে সচেতনতা। ভালোবাসতে হবে আন্তরিকভাবে, তবে নিজের আত্মসম্মান ও স্বাধীনতাকে বিসর্জন দিয়ে নয়।

মনে রাখতে হবে, প্রকৃত বন্ধু সেই ব্যক্তি, যে আপনার সাফল্যে আনন্দিত হয়, বিপদে পাশে দাঁড়ায় এবং আপনার অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত না করে বরং এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়।

সম্পর্ক হোক ভালোবাসার, বিশ্বাসের ও পারস্পরিক সম্মানের। আর জীবনের প্রতিটি বন্ধনে থাকুক সচেতনতা, প্রজ্ঞা ও মানবিকতা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]