রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
War or Peace : The Entire World Looks to the Face of a Field Marshal* *—-Professor M A Barnik মাগুরায় সেলুনে আগে চুল কাটানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে! আহত-৬ *যুদ্ধ-না-শান্তি : এক ফিল্ড মার্শালের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে সারাবিশ্ব* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* *১. অস্থিরতার প্রেক্ষাপট— এক অগ্নিগোলকের পৃথিবী*: সময়ের এই অধ্যায়ে পৃথিবী যেন আগ্নেয়গিরির কিনারায় দাঁড়িয়ে— যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র, প্রতিটি জোট, প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি সম্ভাব্য বিস্ফোরণের পূর্বাভাস বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র-এর কৌশলগত আধিপত্য, ইসরায়েল-এর নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক অবস্থান, ইরান-এর প্রতিরোধী মনোভাব— সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক জটিল দ্বন্দ্বের গোলকধাঁধায় বন্দি। এই অস্থির সময়েই বিশ্বমানবতার দৃষ্টি গিয়ে থামে এক ব্যক্তির উপর— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। *২. একজন মানুষের উত্থান*: সেনাপ্রধান থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির— নামটি এখন শুধু একটি দেশের সামরিক নেতৃত্বের প্রতীক নয়, বরং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তান-এর সেনাপ্রধান হয়েও তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অদৃশ্য সেতু— যেখানে বিরোধী শক্তিগুলো অন্তত কথোপকথনের টেবিলে বসতে রাজি হয়। *৩. ব্যর্থতার ভেতর সম্ভাবনার বীজ*: গত ১১–১২ এপ্রিলের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে— এটি নিঃসন্দেহে বাস্তবতা। কিন্তু এই ব্যর্থতা কি শেষ? নাকি এটি একটি বৃহত্তর সফলতার প্রস্তুতি? বিশ্লেষণ বলছে— এই প্রথম দফার আলোচনা ছিল অবস্থান যাচাইয়ের মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র তার সীমা দেখিয়েছে, ইরান তার শর্ত স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা-রেখা টেনে দিয়েছে। আর এই সবকিছুই ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল তৈরির উপাদান হয়ে উঠেছে। *৪. কূটনৈতিক কৌশল– যুক্তির ছুরিতে শর্তের অবসান* তার সবচেয়ে বড় শক্তি— তিনি চাপ প্রয়োগ করেন না, তিনি পরিস্থিতিকে এমনভাবে সাজান, যাতে প্রতিপক্ষ নিজের অবস্থান থেকেই নরম হতে বাধ্য হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য— এই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সাথে তার সমঝোতা তৈরি করছে একটি সমর্থন কাঠামো। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া— তাদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তাকে দিয়েছে কৌশলগত গভীরতা। এই বহুমাত্রিক কূটনীতি তার প্রচেষ্টাকে করেছে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। ৫. সম্ভাবনার দিগন্ত: কেন সফল হতে পারেন? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কি সত্যিই সফল হতে পারেন? বিশ্লেষণে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে— (১) *নিরপেক্ষতার সুবিধা*: পাকিস্তান সরাসরি এই সংঘাতের মূল পক্ষ নয়, তাই তার মধ্যস্থতা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য। (২) *বহুমুখী সম্পর্ক*: পূর্ব ও পশ্চিম—দুই ব্লকের সাথেই যোগাযোগ রক্ষা করার সক্ষমতা তাকে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। (৩) *সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য*: তিনি শুধু কূটনীতিক নন, একজন সামরিক কৌশলবিদও— যা তাকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। (৪) *ব্যর্থতা থেকে শেখার সক্ষমতা*: প্রথম দফার ব্যর্থতা তাকে দুর্বল করেনি, বরং আরও প্রস্তুত করেছে। *৬. ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা*: পথ এত সহজ নয়; তবে বাস্তবতা কঠিন— যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক প্রভাব ছাড়তে চাইবে না, ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া আপস করবে না, ইসরায়েল অস্তিত্বের প্রশ্নে আপসহীন। এই ত্রিমুখী জটিলতা যেকোনো উদ্যোগকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে। *৭. বিশ্বমানবতার প্রত্যাশা ও শেষ আশ্রয়* আজ পৃথিবী এক অদ্ভুত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে— যেখানে একটি মানুষের প্রচেষ্টাকে “শেষ আশার আলো” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সফল হলে— একটি নতুন শান্তির অধ্যায় শুরু হতে পারে। ব্যর্থ হলে— পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনা আর কল্পনা থাকবে না, তা হয়ে উঠতে পারে নির্মম বাস্তবতা। *৮. বিশ্ববর্বতার ধ্বংসস্তুপে একটি মানুষ দাঁড়িয়ে* ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো সবসময় সহজ মানুষের কাছে আসে না— এসে পড়ে সেই মানুষের কাঁধে, যিনি তা বহন করতে সক্ষম। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন সেই অবস্থানে— যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই আজ যেন পৃথিবী অপেক্ষা করছে, পারমাণবিক অস্ত্রের বীভিষিকায় কী সব ধ্বংস হয়ে যাবে, নাকি পৃথিবী শান্তির পথে হাঁটবে? শান্তি অন্বেষার সেই প্রশ্নের সমাধানে ভার নিজের কাঁধে নিয়ে সাঁতারি যাচ্ছেন, বিপদগ্রস্ত মানুষের এক ত্রাণকর্তা, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শান্তির নিশান তাঁর হাতেই হয়তো পতপত করে উড়ার অপেক্ষায় আছে, আর অপেক্ষায় আছে বিশ্বের তাবৎ প্রাণীকুল ও মানবতা… মাগুরার শ্রীপুরে পাম্পে ড্রামে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারণ,সাংবাদিককে মারধর করলো পুলিশ! উক্ত পুলিশ ক্লোজ! *ফিল্ড মার্শালের ইটে-ইটে গড়া শান্তির দেয়াল* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে

জাতীয় সংস্কারক ড. মুহম্মদ ইউনূস: প্রতিশ্রুতি, পক্ষপাত ও পুনরাবৃত্তির এক বছর

সংবাদদাতা / ১৫২ বার ভিউ
সময়ঃ রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

১. প্রারম্ভ— ইতিহাসের দায় ও নৈতিক কর্তব্য :

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ছিল একটি যুগান্তকারী মোড়। নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থান সেই মুহূর্তে রাষ্ট্রক্ষমতায় এনেছিল একজন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদকে—ড. মুহম্মদ ইউনূসকে। তাঁর আগমনকে জাতি দেখেছিল আশার প্রতীক হিসেবে; একজন নিরপেক্ষ, দুর্নীতিবিরোধী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁর উপস্থিতি অনেকেই মনে করেছিলেন সত্যিকারের পরিবর্তনের সূচনা।

কিন্তু আজ, সেই বিপ্লব-পরবর্তী এক বছর পার হতেই জাতির প্রশ্ন—এই সরকার কী দিয়েছ? আর কী দিতে ব্যর্থ হয়েছে?

২. রক্তের ঋণ ও দায়শূন্যতা :

বিপ্লবের সময় নিহত অন্যূন দুই হাজার তরুণ, মাদ্রাসাছাত্র, ও রাজনৈতিক কর্মীর রক্তে যে পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছিল, সেই পথ আজ ইতিহাসের পাতায় নির্বাক। এখন পর্যন্ত শহিদদের তালিকা চূড়ান্ত হয়নি, আহতদের চিকিৎসা ও পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হয়নি।
আর যে DB, RAB ও পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ ছিল—তারা এখনো বহাল তবিয়তে কাজ করছে।

> “যাদের রক্তে পথ তৈরি, তাদের আজ রাষ্ট্রীয় নীরবতা উপহার!”

 

৩. বিচারহীনতার সংস্কৃতি— রাজনৈতিক বৈষম্য ও বিশ্বাসভঙ্গ :

বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে—একটি রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে। তাদেরকে আদালতে হাজিরই হতে হয়নি। অথচ একই সময়কার অন্যান্য দল ও কর্মীদের বিরুদ্ধে একই অভিযোগে মামলা বহাল রয়েছে। এই দ্বিমুখী বিচার ব্যবস্থা জনমনে প্রশ্ন জাগায়—এই কি সেই ‘নৈতিকতা’ যার নামে বিপ্লব হয়েছিল?

৪. নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ— লন্ডন বৈঠক ও যৌথ বিবৃতি :

২০২৫ সালের মার্চে লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক ও যৌথ বিবৃতি পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেয়।
The Guardian লিখে—

> “A transitional leader is not supposed to sign political statements with the leader of a controversial past.”
(Guardian World, 26 March 2025)

 

এটি ছিল জাতির চোখে নিরপেক্ষতার মুখোশ খোলার মুহূর্ত।

৫. পুরনো শক্তির পুনরুত্থান—পরিবারতন্ত্র ও দলীয় আধিপত্য :

ড. ইউনূস বারবার বলেছেন, তিনি পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে। অথচ আজও প্রশাসনের বহু স্তরে দেখা যায়—আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সাবেক নেতারা পরামর্শক, ঘনিষ্ঠ, কিংবা সরাসরি সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়োজিত।
পুরনো ছাত্রসংগঠনের নেতারা এখন নতুন রূপে ফিরে এসেছে প্রশাসনে—তারা যেন ‘নতুন জামার পুরনো শাসক’।

৬. বিচারবহির্ভূত বাহিনী বহাল— RAB এখনো সক্রিয় :

২০০৪ সালে গঠিত RAB-এর বিরুদ্ধে রয়েছে গুম, হত্যা, এবং নির্যাতনের বহু অভিযোগ। জাতিসংঘ ও Amnesty International বহুবার এই বাহিনীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। কিন্তু ইউনূস সরকার এই বাহিনী বিলুপ্ত করেনি, বরং নতুন নামে অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে।

৭. অর্থনীতি ও দুর্নীতি—-অঙ্গীকার ছিল, অর্জন নেই :

ড. ইউনূস সরকার প্রথম বছরে চেষ্টা করেছে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ, SME খাতে ঋণ প্রণোদনা, এবং কিছু অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাতিল করতে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে—

জিডিপি নেমে এসেছে ৩.২%-এ,

ডলারের অভাবে খাদ্য ও ওষুধ আমদানিতে সমস্যা,

পাচার হওয়া ৯.৭ বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে আনার কোনো পদক্ষেপ কার্যকর হয়নি।

 

৮. বৈদেশিক কূটনীতি—ভারসাম্য না দ্বিধা :

ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা সত্ত্বেও, বৈদেশিক নীতিতে দেখা গেছে দ্বৈততা।

ভারত সীমান্ত হত্যা ও ট্রানজিট ইস্যুতে নিষ্ক্রিয়,

চীন বিনিয়োগ বাড়ালেও পশ্চিমা অসন্তোষ বাড়ছে,

যুক্তরাজ্য নির্বাচন ও মানবাধিকার প্রশ্নে কড়া,

জাপান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না পেলে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় না,

কাতার শ্রমবাজারে আশ্বাস দিলেও বাস্তব অগ্রগতি নেই,

পাকিস্তান-এর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা কিছুদূর এগিয়ে আবার থেমে গেছে।

 

৯. নির্বাচন—-সময় ঠিক, প্রস্তুতি শূন্য :

ড. ইউনূস বলেছেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নির্বাচন হবে। কিন্তু:

সংবিধান খসড়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি,

নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন হয়নি,

ভোটার তালিকা হালনাগাদ হয়নি।

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেই নির্বাচন হয় না—এই বাস্তবতা এখন ক্রমশ দৃশ্যমান।

১০. সম্ভাবনা ও সংশয়ের সন্ধিক্ষণে :

এক বছরের মাথায় বলা যায়, এই সরকার এখনো বিপ্লবের প্রেরণা আর বাস্তব শাসনের চাপের মাঝখানে আটকে আছে। যাঁরা বিপ্লব ঘটিয়েছেন, তাঁদের কণ্ঠ নিস্তব্ধ; আর যাঁরা দেশের দুর্নীতির স্থপতি ছিলেন, তাঁরা নতুন পরিচয়ে ফিরে এসেছেন।

ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত সততা, মানবিক উচ্চারণ ও বিশ্বমঞ্চে মর্যাদা প্রশ্নাতীত। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি কি পারছেন নিজের অবস্থান রক্ষা করতে?

জনগণের প্রশ্ন তাই একটাই:

> “এই এক বছরে কি আমরা সত্যিকারের পরিবর্তন পেয়েছি, না পুরনো দুঃশাসনেরই ‘নৈতিক সংস্করণ’?”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]

*যুদ্ধ-না-শান্তি : এক ফিল্ড মার্শালের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে সারাবিশ্ব* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* *১. অস্থিরতার প্রেক্ষাপট— এক অগ্নিগোলকের পৃথিবী*: সময়ের এই অধ্যায়ে পৃথিবী যেন আগ্নেয়গিরির কিনারায় দাঁড়িয়ে— যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র, প্রতিটি জোট, প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি সম্ভাব্য বিস্ফোরণের পূর্বাভাস বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র-এর কৌশলগত আধিপত্য, ইসরায়েল-এর নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক অবস্থান, ইরান-এর প্রতিরোধী মনোভাব— সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক জটিল দ্বন্দ্বের গোলকধাঁধায় বন্দি। এই অস্থির সময়েই বিশ্বমানবতার দৃষ্টি গিয়ে থামে এক ব্যক্তির উপর— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। *২. একজন মানুষের উত্থান*: সেনাপ্রধান থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির— নামটি এখন শুধু একটি দেশের সামরিক নেতৃত্বের প্রতীক নয়, বরং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তান-এর সেনাপ্রধান হয়েও তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অদৃশ্য সেতু— যেখানে বিরোধী শক্তিগুলো অন্তত কথোপকথনের টেবিলে বসতে রাজি হয়। *৩. ব্যর্থতার ভেতর সম্ভাবনার বীজ*: গত ১১–১২ এপ্রিলের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে— এটি নিঃসন্দেহে বাস্তবতা। কিন্তু এই ব্যর্থতা কি শেষ? নাকি এটি একটি বৃহত্তর সফলতার প্রস্তুতি? বিশ্লেষণ বলছে— এই প্রথম দফার আলোচনা ছিল অবস্থান যাচাইয়ের মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র তার সীমা দেখিয়েছে, ইরান তার শর্ত স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা-রেখা টেনে দিয়েছে। আর এই সবকিছুই ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল তৈরির উপাদান হয়ে উঠেছে। *৪. কূটনৈতিক কৌশল– যুক্তির ছুরিতে শর্তের অবসান* তার সবচেয়ে বড় শক্তি— তিনি চাপ প্রয়োগ করেন না, তিনি পরিস্থিতিকে এমনভাবে সাজান, যাতে প্রতিপক্ষ নিজের অবস্থান থেকেই নরম হতে বাধ্য হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য— এই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সাথে তার সমঝোতা তৈরি করছে একটি সমর্থন কাঠামো। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া— তাদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তাকে দিয়েছে কৌশলগত গভীরতা। এই বহুমাত্রিক কূটনীতি তার প্রচেষ্টাকে করেছে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। ৫. সম্ভাবনার দিগন্ত: কেন সফল হতে পারেন? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কি সত্যিই সফল হতে পারেন? বিশ্লেষণে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে— (১) *নিরপেক্ষতার সুবিধা*: পাকিস্তান সরাসরি এই সংঘাতের মূল পক্ষ নয়, তাই তার মধ্যস্থতা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য। (২) *বহুমুখী সম্পর্ক*: পূর্ব ও পশ্চিম—দুই ব্লকের সাথেই যোগাযোগ রক্ষা করার সক্ষমতা তাকে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। (৩) *সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য*: তিনি শুধু কূটনীতিক নন, একজন সামরিক কৌশলবিদও— যা তাকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। (৪) *ব্যর্থতা থেকে শেখার সক্ষমতা*: প্রথম দফার ব্যর্থতা তাকে দুর্বল করেনি, বরং আরও প্রস্তুত করেছে। *৬. ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা*: পথ এত সহজ নয়; তবে বাস্তবতা কঠিন— যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক প্রভাব ছাড়তে চাইবে না, ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া আপস করবে না, ইসরায়েল অস্তিত্বের প্রশ্নে আপসহীন। এই ত্রিমুখী জটিলতা যেকোনো উদ্যোগকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে। *৭. বিশ্বমানবতার প্রত্যাশা ও শেষ আশ্রয়* আজ পৃথিবী এক অদ্ভুত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে— যেখানে একটি মানুষের প্রচেষ্টাকে “শেষ আশার আলো” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সফল হলে— একটি নতুন শান্তির অধ্যায় শুরু হতে পারে। ব্যর্থ হলে— পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনা আর কল্পনা থাকবে না, তা হয়ে উঠতে পারে নির্মম বাস্তবতা। *৮. বিশ্ববর্বতার ধ্বংসস্তুপে একটি মানুষ দাঁড়িয়ে* ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো সবসময় সহজ মানুষের কাছে আসে না— এসে পড়ে সেই মানুষের কাঁধে, যিনি তা বহন করতে সক্ষম। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন সেই অবস্থানে— যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই আজ যেন পৃথিবী অপেক্ষা করছে, পারমাণবিক অস্ত্রের বীভিষিকায় কী সব ধ্বংস হয়ে যাবে, নাকি পৃথিবী শান্তির পথে হাঁটবে? শান্তি অন্বেষার সেই প্রশ্নের সমাধানে ভার নিজের কাঁধে নিয়ে সাঁতারি যাচ্ছেন, বিপদগ্রস্ত মানুষের এক ত্রাণকর্তা, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শান্তির নিশান তাঁর হাতেই হয়তো পতপত করে উড়ার অপেক্ষায় আছে, আর অপেক্ষায় আছে বিশ্বের তাবৎ প্রাণীকুল ও মানবতা…