মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাগুরায় ৮ হাজার ইয়াবা ও নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আচক! টাকা ও বাইক জব্দ!

*The Washington Post–এর দৃষ্টিতে বাংলাদেশ: জামায়াতের ক্ষমতায়নে যুক্তরাষ্ট্রের নীরব সমর্থন* —–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৪৯ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন

The Washington Post–এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে কেবল একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের দেশ হিসেবে নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি কৌশলগত পরীক্ষাগার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনের অন্তর্নিহিত ভাষা ও কূটনৈতিক ইঙ্গিত বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়—যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে আর “অস্বস্তিকর বাস্তবতা” হিসেবে দেখছে না; বরং তাকে একটি কার্যকর বিকল্প শক্তি হিসেবে বিবেচনায় নিচ্ছে।

ক্ষমতায়নের ধারণাগত রূপান্তর
The Washington Post–এর প্রতিবেদনে সরাসরি “support” শব্দটি ব্যবহার না করলেও, কয়েকটি বিষয় ধারাবাহিকভাবে উঠে এসেছে—
ইসলামপন্থি দলগুলোকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার যুক্তি
‘Exclusion fuels radicalism’—এই পুরোনো মার্কিন নীতির পুনরাবৃত্তি
বাংলাদেশে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হলে কারা সেই শূন্যতা পূরণ করতে সক্ষম—সে বিষয়ে বাস্তববাদী মূল্যায়ন
এই তিনটি উপাদান মিলিয়ে প্রতিবেদনের ভেতর দিয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা আসে:

*জামায়াতকে উপেক্ষা নয়, বরং ব্যবস্থার ভেতরে এনে ক্ষমতার অংশীদার করা—এটাই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল।*

নীরব সমর্থনের কার্যকর উপায়
The Washington Post যেভাবে ঘটনাপ্রবাহ উপস্থাপন করেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সরাসরি হস্তক্ষেপের নয়, বরং পরিবেশ তৈরির—
কূটনৈতিক ভাষা নরম করা
একসময় জামায়াতকে ঘিরে “war crimes legacy” ও “extremist linkage”–এর যে ভাষা ব্যবহৃত হতো, তা প্রতিবেদনে প্রায় অনুপস্থিত। এটি নিজেই একটি কৌশলগত সংকেত।
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের চাপ
প্রতিবেদনে বারবার জোর দেওয়া হয়েছে এমন নির্বাচনের ওপর, যেখানে “all major political forces” অংশ নেবে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটি কার্যত জামায়াতের নির্বাচনি বৈধতার পথ প্রশস্ত করে।
মানবাধিকার বনাম ভূরাজনীতি
The Washington Post স্পষ্ট করে দেখিয়েছে—চীন ও রাশিয়ার প্রভাব ঠেকানো এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মানবাধিকার প্রশ্নের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতায় আদর্শগত আপত্তি সত্ত্বেও জামায়াতকে গ্রহণযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্ষমতায়নের রাজনীতিতে জামায়াত কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিবেদনের বিশ্লেষণী অংশে একটি বিষয় স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতকে দেখে তিনটি সক্ষমতার কারণে:

(১) সংগঠিত ক্যাডার ও সামাজিক নেটওয়ার্ক,
(২)দীর্ঘমেয়াদি বিরোধী রাজনীতিতে টিকে থাকার অভিজ্ঞতা,
(৩) ইসলামপন্থি হলেও রাষ্ট্রবিরোধী সশস্ত্র পথে না যাওয়ার কৌশল।

এই কারণেই The Washington Post–এর ভাষ্যে জামায়াতকে “manageable political actor” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে—যা কূটনৈতিক অভিধানে কার্যত ক্ষমতায়নের পূর্বশর্ত।
সমালোচনামূলক দিক
প্রতিবেদনটি যদিও কৌশলগত বাস্তবতার কথা বলেছে, কিন্তু এতে একটি গুরুতর নৈতিক প্রশ্ন অনালোচিত থেকে গেছে—
১৯৭১–এর যুদ্ধাপরাধের উত্তরাধিকার
ধর্মভিত্তিক রাজনীতির দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রভাব
সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকার প্রশ্ন
এই নীরবতা নিজেই ইঙ্গিত দেয়—যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়গুলোকে এখন দ্বিতীয় সারির ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

The Washington Post–এর প্রতিবেদনের সারকথা বিশ্লেষণ করলে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে জামায়াতের ক্ষমতায়নকে আর প্রতিরোধযোগ্য কোনো বিষয় হিসেবে দেখছে না। বরং পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায়—
জামায়াতকে ক্ষমতার বাইরে রাখার চেয়ে, নিয়ন্ত্রিতভাবে ক্ষমতার অংশ করে নেওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশি লাভজনক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]