মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
In Reverence and Remembrance ‘Abdul Hye—Professor M A Barnik সুপ্রিয় আবদুল হাইকে হারালাম—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিজয়ে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাজউক কর্মকর্তা গ্রেফতার: নারী সাংবাদিক হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় জামায়াতের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত Without Classrooms, Education Remains Incomplete* *—-Professor M A Barnik শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে প্রকৃত মানুষ তৈরি অসম্ভব* *—–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

কেরামতের কেরামতি তে বহাল তবিয়তে ২ মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত নাসির

সংবাদদাতা / ৩২৯ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন

ভারতে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বৈরশাসক ও তার পরিবারের রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি ও জালিয়াতির তিন মামলায় গত ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ঘোষিত রায়ে অন্যান্য আসামীদের সাথে রাজউকের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনকে ৯ বছর কারাদণ্ড প্রদান এবং একইসাথে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অপর এক মামলায় গত ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঘোষিত রায়ে অন্যান্য আসামীদের সাথে রাজউকের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীনকে ৫ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

রাজউকের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) বিসিএস ১৫ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন (অতিরিক্ত সচিব) বর্তমানে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পদে কর্মরত।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সরদার মোঃ কেরামত আলী এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পদে কর্মরত রাজউকের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন উভয়েই বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১১তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা/ব্যাচম্যাট।

সরকারি কর্মচারি আইন এর ৪২ (১) ধারায় (ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত কর্মচারীর ক্ষেত্রে ব্যবস্থা) বলা আছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড বা ১ (এক) বৎসর মেয়াদের অধিক মেয়াদের কারাদন্ডে দণ্ডিত হইলে, উক্ত দণ্ড আরোপের রায় বা আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে চাকরি হইতে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হইবেন’।

ভারতে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বৈরশাসক ও তার পরিবারের রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি ও জালিয়াতির মামলার রায় ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুল প্রচারিত হয়। এই বিষয়টি বিআরডিবি’র বর্তমান মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বিসিএস এগার ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সরদার মোঃ কেরামত আলীর না জানার কথা নয়।

যেহেতু, বিআরডিবি’র মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সরদার মোঃ কেরামত আলী সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এর একান্ত সচিব (পিএস) ছিলেন এবং উল্লিখিত ২টি মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন (অতিরিক্ত সচিব) ব্যাচম্যাট ও বন্ধু এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন তাই বিষয়টি গোপন রেখেছেন।
রায় ঘোষণা হওয়ার পরে বিআরডিবি’র পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন (অতিরিক্ত সচিব) মাত্র একদিন অফিসে এসেছিলেন। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে থেকে অফিস করছেন/নথি পত্রে স্বাক্ষর করছেন। তিনি অফিসে না এসেও সরকারি পাজেরো গাড়ীসহ অন্যান্য সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। এমনকি ট্রেনিং/সেমিনারের সম্মানী ভাতা ইত্যাদিও গ্রহণ করছেন। তাকে এই সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এর সাবেক একান্ত সচিব (পিএস) সরদার মোহাম্মদ কেরামত আলী।

সরদার মোঃ কেরামত আলী বিআরডিবি’র মহাপরিচালক হিসেবে যোগদানের পর হতে ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগীদের অর্থের বিনিময়ে পুনর্বাসন করে চলেছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় একাধিক নিউজও হয়েছে। কিন্তু তিনি নিজেকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে তার দুর্নীতি ধামাচাপা দিয়ে তুঘলকি কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের অন্যতম প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট বিআরডিটিআই সিলেট পরিচালক পদ হতে বিআরডিবি’র একজন অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ যুগ্মপরিচালক-কে সরিয়ে দিয়ে সেখানে মোস্ট জুনিয়র কর্মকর্তা (উপপরিচালক) আক্কাছ আলীকে দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। অথচ, আক্কাছ আলী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং হাজী মোহাম্মদ মুহসীন হল ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এই আক্কাছ আলী বিআরডিবি’র নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলী, চাকরি স্থায়ীকরণ, বাসা বরাদ্দ, গাড়ী বরাদ্দ, প্রকল্প হতে রাজস্ব খাতে চাকরি স্থানান্তর, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড, উচ্চতর গ্রেড ইত্যাদি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন। তিনি বিআরডিবি’র উপপরিচালক (প্রশাসন) পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পরে জুলাই যোদ্ধাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তাকে সিলেট প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বদলী করা হয়েছিল। সরদার মোঃ কেরামত আলী বিআরডিবি’র মহাপরিচালক হিসেবে যোগদানের পরে আক্কাছ আরী মোট অংকের লেনদেন এবং আওয়ামী প্রভাব কাজে লাগিয়ে যোগ্য কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলী করিয়ে তিনি বিআরডিটিআইএর পরিচালক পদের দায়িত্ব নেন। বিআরডিটিআইএর পরিচালক পদটি ৩য় গ্রেডের। অথচ আক্কাছ আলী ৬ষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তা। আক্কাছ আলীকে দায়িত্ব দেয়ার জন্য ৪র্থ গ্রেডের দুইজন কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলী করেন সরদার মোঃ কেরামত আলী। বদলীর বিষয়ে প্রতিবাদ করায় একজন যুগ্মপরিচালককে কোন পোস্টিং না দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ নোয়াখালীতে সংযুক্ত করে রেখেছেন।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ বিআরডিবি’র সহ-সভাপতি মোঃ সাজ্জাদুর রহমান (সহকারী পরিচালক-হিসাব), সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ সিফাত আজাদ (সহকারী পরিচালক-অপ্রধান), সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম পলাশ (সহকারী পরিচালক-আইন), সহসভাপতি সিদ্ধার্থ মজুমদার (সহকারী পরিচালক-প্রশাসন), সহসভাপতি মোঃ আজহারুল ইসলাম (সহকারী পরিচালক-পজীপ), সহসভাপতি মোঃ মাহফুজুল আলম (সহকারী পরিচালক-অডিট), যুগ্মসাধারণ সম্পাদক গোলাম রহমান রাজা (সহকারী পরিচালক-প্রশাসন), যুগ্মসাধারণ সম্পাদক শিউলি বেগম (সহকারী পরিচালক-প্রশিক্ষণ), যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজমুল হক (সহকারী পরিচালক-মনিটরিং), যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম (সহকারী পরিচালক-প্রশাসন), যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিয়াতুল্লাহ (সহকারী পরিচালক-প্রশিক্ষণ), সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সারোয়ার আলম (সহকারী পরিচালক-কমন সার্ভিস), আইন সম্পাদক মোঃ রাহাত খান (উপপ্রকল্প পরিচালক-শৃংখলা), বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ বাবুল হোসেন (সহকারী পরিচালক-পজীপ), কৃষি সম্পাদক মোঃ কাওছার হোসেন (সহকারী পরিচালক-হিসাব), ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল কাদের আমিন (সহকারী পরিচালক-পরিকল্পনা), প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ মনজুর আলম (সহকারী পরিচালক-ঋণ), আইন সম্পাদক আয়শা নূরী (সহকারী পরিচালক-প্রশাসন), নির্বাহী সদস্য আল মাহবুব (সহকারী পরিচালক-পরিকল্পনা) এবং নির্বাহী সদস্য ফারসিন সুলতানা (উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা-তেজগাঁও) এ (সকলকে লাভজনক পদে) পদায়ন করেছেন।

সরদার মোঃ কেরামত আলী বেলা ১০:৩০/১১টার দিকে অফিসে এসে বেলা ২/৩টার দিকে অফিস ত্যাগ করেন। অফিসে আসেন শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ/সভা/সেমিনার/কনফারেন্স এর সম্মানী নেয়ার জন্য। অনলাইনে ক্লাস না নিয়েও তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণের সম্মানী গ্রহণ করেন। যে দিন প্রশিক্ষণ/সভা/সেমিনার/কনফারেন্স না থাকে সেদিন তিনি অফিসে আসেনই না।

সরদার মোঃ কেরামত আলী সারাদিন শুধু তার সচিব পদে পদোন্নতি নেয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও অফিসে দৌড়াদৌড়ি করেন। বর্তমান সরকার কেন তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিচ্ছে না এ জন্য তিনি বর্তমান সরকারকে বিষেদগার করেন।বিআরডিবির মহাপরিচালকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]