মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিজয়ে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাজউক কর্মকর্তা গ্রেফতার: নারী সাংবাদিক হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় জামায়াতের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত Without Classrooms, Education Remains Incomplete* *—-Professor M A Barnik শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে প্রকৃত মানুষ তৈরি অসম্ভব* *—–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* A Voice of Principle in Parliament Barrister Nowshad Zamir—Professor M. A. Barnik ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা –অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

*জ্বালানি তেলের অগ্নিপরীক্ষায় বাংলাদেশ* —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৪১ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন

১. এক সিস্টেমিক শকের মুখোমুখি

বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট—বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিকে গভীর ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। জ্বালানি তেল, LNG এবং বিদ্যুৎ খাতে চাপ একযোগে বাড়ায় অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা—সবকিছুই এক ধরনের “সিস্টেমিক শক”-এর মুখে দাঁড়িয়ে।

*২. জ্বালানি নির্ভরতার কঠিন চিত্র*:
(১) আমদানিনির্ভরতা হেতু
বাংলাদেশ তার মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫% আমদানি করে।

(২) বিদ্যুৎ খাতে ৬৫% পর্যন্ত জ্বালানি/বিদ্যুৎ আমদানি নির্ভর।
(৩) তেল ও গ্যাস ব্যবহারের কারণে দৈনিক প্রায় ২.৬ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের দরকার হয়।

(৪) বছরে ৬–৭ মিলিয়ন টন জ্বালানি তেল আমদানি করা লাগে।
(৫) শিল্প খাতে জ্বালানি তেল বাবদ বার্ষিক ব্যয় ৬০০–৬৫০ বিলিয়ন টাকা।
(৬) LNG নির্ভরতার কারণে
গ্যাসের চাহিদার ৩০% পর্যন্ত LNG দিয়ে পূরণ করা লাগে।
(৭) ২০২৫ সালে LNG আমদানি ব্যয় প্রায় $৩.৮৮ বিলিয়ন।

*৩. বৈশ্বিক সংকটের সরাসরি প্রভাব*
(১) মূল্য বৃদ্ধির কারণে
প্রতি $১০ তেলের দাম বাড়লে মাসে অতিরিক্ত $৮০ মিলিয়ন ব্যয়।

(২) মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী নির্ভরতা হেতু
যুদ্ধের কারণে LNG সরবরাহ ব্যাহত ও দাম দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি।

(৩) বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বিধায় সার কারখানা চালু রাখা কঠিন।

*৪. অর্থনীতি ও সমাজে প্রভাব*:
(১) মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি।
(২) পরিবহন খরচ বৃদ্ধি। খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি।
(৩) শিল্প উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি।
(৪) বাজারে মূল্যস্ফীতি।
(৫) গার্মেন্টস শিল্প ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত।
(৬) বৈদেশিক মুদ্রার চাপে
জ্বালানি আমদানিতে ডলার ব্যয় বৃদ্ধি।
(৭)রিজার্ভ সংকট তীব্রতর।

*৫. সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ*:
(১)জ্বালানি সংকটে জনঅসন্তোষ তীব্রভাবে বাড়ছে।
(২)বাজারে অস্থিরতা ও মজুতদারি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

*৬. সরকারের টিকে থাকার মূল চ্যালেঞ্জ*:
(১) অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছেনা।
(২) জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছেনা।
(৩) জনঅসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হওয়ার আশঙ্কা।
(৪) গণভোট নিয়ে জটিলতার মুখে রাজনৈতিক বৈধতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

*৭. টিকে থাকার কৌশল কি হতে পারে*:
(১) মধ্যপ্রাচ্য নির্ভরতা কমিয়ে
সিঙ্গাপুর, ভারত, চীন থেকে তেল সংগ্রহ বৃদ্ধি।

(২) কয়লা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানো।
(৩) স্পট LNG বেশি ব্যয়বহুল বিধায়
দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আশ্রয় গ্রহণ।
(৪) BPC-এর মুনাফা কমিয়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা।
(৫) বিদ্যুৎ অপচয় কমানো।
(৬) অফিস সময় পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সাশ্রয়ের ভাবনা।
(৭) বিশ্বব্যাংক থেকে সাহায্য নিয়ে পরস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা।তাই ২০২৬ সালে $২ বিলিয়ন সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
(৮) জ্বালানি আমদানি কমাতে সহায়ক
নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌর, বায়ু) উপর জোর দেয়া।

(৯) জনগণকে বাস্তব পরিস্থিতি জানানো।
(১০) কার্যকর যোগাযোগ
সংকট মোকাবেলার পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।

*৮. স্বনির্ভর জ্বালানি নীতি অনুসন্ধান*:
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট শুধু একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়—এটি একটি স্ট্রাকচারাল দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।
যদি সরকার—
আমদানিনির্ভরতা কমাতে পারে,
দক্ষতা ও বিকল্প জ্বালানিতে বিনিয়োগ করে,
এবং রাজনৈতিকভাবে স্বচ্ছ ও বাস্তবমুখী থাকে,
তবে এই সংকটই হতে পারে একটি নতুন স্বনির্ভর জ্বালানি নীতির সূচনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]