শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
আবু রায়হান, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি-
বাগেরহাটের শরণখোলায় তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ভরাট হয়ে থাকা খাল পুনঃখনন করে সেচের পানি সংকট দূর করা গেলে তরমুজসহ কৃষি উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে তরমুজের সমারোহ। এছাড়া রাজেশ্বর, জিলবুনিয়া, উত্তর তাফালবাড়ী ও রাজৈরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামেও ব্যাপক আকারে তরমুজ চাষ হচ্ছে।
সোনাতলা গ্রামের কৃষক মজিবর আকন জানান, এ বছর শুধু তাদের গ্রামেই ৮ জন কৃষক প্রায় ৮০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। চার বছর আগে তিনি প্রথম এ অঞ্চলে তরমুজ চাষ শুরু করেন, পরে তা দেখে অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হন। উৎপাদিত তরমুজ ট্রাকভর্তি করে খুলনা, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হচ্ছে। তার মতে, ধানের তুলনায় তরমুজ চাষে খরচ কম হলেও লাভ বেশি।
তরমুজের খেত দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশু ভিড় করছেন, যা এলাকায় বাড়তি আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে।
তবে কৃষকরা পানি সংকটকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কৃষক পান্না আকন বলেন, খুরমাতলা উত্তর তাফালবাড়ী খালটি ভরাট হয়ে থাকায় দূর থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি এনে সেচ দিতে হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল। এছাড়া সম্প্রতি আকস্মিক বৃষ্টিতে মাঠে পানি জমে অনেক তরমুজ নষ্ট হয়েছে বলে জানান কৃষক ফজলুল হক, মিরাজ হাওলাদার ও শিপন হালদার। এতে প্রত্যাশিত লাভ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তারা।
স্থানীয় সমাজসেবক আবু রাজ্জাক আকন বলেন, তরমুজ খেতের কাছেই থাকা খুরমাতলা উত্তর তাফালবাড়ী খালটি দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে আছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালটি পুনঃখনন করা হলে কৃষকদের সেচ সমস্যা দূর হবে এবং কৃষি উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়বে।
শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার জানান, তরমুজ চাষ এ অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে এবং ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আগামীতে আরও বেশি জমিতে তরমুজ চাষ সম্প্রসারণের আশা প্রকাশ করেন তিনি।