মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১২ অপরাহ্ন
ফজলে মমিন,শ্রীপুর(গাজীপুর)
ঢাকার অদরে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌরসভা হালের সময়ে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্হ আর অনিয়মে ব্যাপক আলোচিত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।অনিয়মই যেখানে নিয়ম।বিগত ২০০০ ইং সালে ইউনিয়ন পরিষদ বিলুপ্ত করে সাবেক ৩ টি ওয়ার্ড বর্তমানে ৯ টি ওয়ার্ড নিয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পৌরসভা এটি।পরবর্তীতে তেলিহাটি ইউনিয়নের আংশিক(উজিলাব)অন্তর্ভুক্তি করা হয়।পৌরসভার ৮৫ ভাগ এলাকা জুড়ে ছোট-বড় ও মাঝারী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠার ফলে পৌরসভাটি ঘনবসতিপুর্ন।পৌরসভার বাজেটের সিংহভাগ টাকা আসে শিল্প ও বানিজ্যিক কর হতে।দেশের বৃহত্তম পৌরসভা এবং স্হানীয় শিল্প ও বানিজ্যিক কর আদায়ে পৌরসভাটি অর্থনৈতিকভাবে স্বাভলম্বি।সদ্য পদচ্যুতি পৌর মেয়র আলহাজ মো:আনিছুর রহমান মানবিক হওয়ায় একটানা ৪ বার মেয়র নির্বাচিত হন।নিরহংকার,দাম্ভিকতামুক্ত আর প্রতিশোধপরায়ন না হওয়ায় পৌর নাগরিকরা বারবার আনিছুর রহমানকেই বেছে নেন তাদের সুযোগ্য অভিবাবক হিসেবে।
মেয়র দীর্ঘ দুই যুগ তার আচরণগত সবটুকু দিয়ে পৌরনাগরিককে প্রতিনিয়ত সেবা দিয়েছেন।নাগরিকরাও সব সময় পাশে পেয়েছেন।অপরদিকে পৌরসভার কর্মকর্তা/কর্মচারিদের অব্যাহত অনিয়ম আর দুর্নীতির ফলে হুমকির মুখে মেয়রের সব অর্জন তলানিতে।অনিয়ম আর দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার এখনই সময়।এ মুহুর্তে পৌরসভা হতে দুর্নীতিবাজ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃরফিকুল হাসানকে না সরাতে পারলে পৌর নাগরিক সেবা প্রশ্নের মুখে পরার ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করেন।পৌর নির্বাহী আওয়ামী দলকানা একজন প্রভাবশালী কর্মচারী হিসেবে ইতিপুর্বে নানা কাজে প্রকাশ করে আসছিলেন।
সদ্য পদচ্যুতি মেয়র মানবিক ও মাত্রাতিরিক্ত উদার হওয়ায় সুযোগ সন্ধানী অসৎ কর্মকর্তা/ কর্মচারিরা বিভিন্ন সময় বিধি-বর্হি:ভুত কাজে উৎসাহ দিয়ে তাকে অসংখ্য অনিয়ম কাজে মদদ দিয়েছিলেন।
জনশ্রুতি রয়েছে,সদ্য পদচ্যুতি মেয়র আনিছুর রহমানের অমায়িক আচরণ,উদার আর মানবিকতার জন্য একজন কুলি-দিনমজুর থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্ছ কর্তাব্যক্তিদের সাথে ছিল তাঁর মধুর সখ্যতা।সহজেই রয়েছে যে কোন শ্রেনী-পেশার মানুষকে আপন করে নিতে পারার এক অদৃষ্ট যাদু।তবে তাঁর প্রসাশনিক দক্ষতা আর কাজের জবাবদিহিতার অনুপুস্হিতি ছিলো মারাত্বকভাবে।অনিয়ম,দুর্নীতি,স্বেচ্ছাচারিতা আর লুটপাটে তাঁর নিরব থাকায় ওই গুলিকে উৎসাহিত করার প্রবনতা পৌর মালি হতে শুরু করে সর্বোচ্চ পৌর নির্বাহী পর্যন্ত দেখা গেছে।জবাবদিহিতা না থাকার ফলে দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসৎ কর্মকর্তা/কর্মচারিরা শ্রীপুর পৌরসভাটি অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পুর্ন থাকায় দেশের দ্বিতীয় টাকসাল মনে করে মোটা অংকের ঘুষ আর উপর মহলের তদবিরের মাধ্যমে বদলী হয়ে শ্রীপুর পৌরসভায় শিকর ঘেড়ে বসে।যোগদানের একমাসের মাথায় উঠিয়ে নেন আগের পৌরসভার যাবতীয় বকেয়া।পরিবেশ বুঝে নিজকে জাহির করতে থাকে তাদের ক্ষমতা।অমুক মন্ত্রী,অমুক সচিব,অমুক পরিচালকসহ সরকারের ক্ষমতাধর ব্যাক্তিদের নাম ভাংগানো।জনান দেয় তাদের ক্ষমতার উৎস।ক্ষেত্র বিশেষ আইন,বিধি-বিধান,এমন কি স্বয়ং মেয়রকে ভ্রুক্ষেপ না করে শুরু করে হরিলুট।
দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেড়িয়ে আসছে একের পর এক দুর্নীতি আর অনিয়মের চিত্র।খোঁজ নিয়ে জানাগেছে,বর্তমান পৌর নির্বাহী এবং সহকারি প্রকৌশলী (পানি ও পয়নিস্কাশন) প্রায় কোটি টাকা নিয়েছেন আগের পৌরসভার কর্মরত থাকার বকেয়া বেতনসহ আনুতোষিক।পৌর নির্বাহী শ্রীপুর পৌরসভা হতে অবসরে যেতে ইতিমধ্যে সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনেকটা ম্যানেজই করে নিয়েছে বলে জানা যায়।অনেকটা নিরাপদে নানা অনিয়মের আশ্রয়ের মাধ্যমে নিজের আখের গোছাচ্ছেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা।অল্প কিছুদিনে পৌর নির্বাহী তার জামালপুর নিজ এলাকায় জমি,ঢাকাতে ফ্ল্যাট,গাড়ী ও প্রচুর বিলাসী ফার্নিচারের মালিক বনে গেছেন বলে একটি সুত্র জানান।
সম্প্রতি পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃরফিকুল হাসানের বিরুদ্ধে সহকারি প্রকৌশলীর কাছ থেকে ১১লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগের বিষয়টি বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় এবং অভিযোগকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে দুদক কার্যালয় ও মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের নির্দেশে স্হানীয় সরকার মন্ত্রানালয় হতে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে জেলা প্রশাসক,গাজীপুরকে পত্র দিয়েছেন।পত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক পরিচালক(উপ-সচিব)স্হানীয় সরকার বিভাগ(ডিডিএলজিডি) গাজীপুরকে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।সুত্রটি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন,তদন্ত প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শেষ করা হয়েছে।তার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন৷ নিতে পৌরসভার আরেক প্রভাশালী কর্মকর্তা দায়িত্ব নিয়ে দৌড়ঝাপ করছেন।
ইতিপুর্বে পৌরসভার জনবল নিয়োগে যে কটা নিয়োগ হয়েছে সব কটাতে অযোগ্য-অদক্ষ্য ও কাগজ পত্রে মারাত্বক জালজালিয়াতি করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।অপর দিকে পৌরসভাটি অর্থনৈতিক স্বাভলম্বি হওয়ায় দুর্নীতি পরায়ন এবং অসৎ কর্মকর্তারা এ পৌরসভা বদলী হয়ে আসতে মরিয়া হয়ে উঠে।নিয়োগ বানিজ্য,বদলী বানিজ্য ও উন্নয়নের নামে নানা ব্যায় দেখিয়ে অর্থলুটপাট করতে রয়েছে একটি সিন্ডকেট।ওই সিন্ডকেট অসচ্ছ প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গোপনীয়তায় বিগত ২০০৯ সাল ও ২০২০ সালে পৌরসভায় জনবল নিয়োগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ রয়েছে নামে বেনামে,স্ত্রী,বাবা,শ্যালকের নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স করে বা অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে পৌরসভার উন্নয়নে বড় বড় প্রকল্প এবং পৌরভবনে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের নামে লুটপাট করে আসছে সিন্ডিকেটটি।অদক্ষ্য,অনভিঙ্ঞ এবং অসৎ কর্মকর্তা থাকায় বিগত ১৭-১৮ অর্থবছরে লাইসেন্স শাখার আদায়কৃত প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা না রেখে ব্যাংকের ভুয়া জমার রশিদ পৌরসভায় জমা দেয়া হত।ওই ঘটনায় রিতিমত হৈচৈ পড়ে যায়।ওই ঘটনার রেস কাটতে না কাটতে বিগত ২০২০-২৯২১ অর্থবছরে কর শাখায় ঘটে ভয়ংকর কেলেংকারি।লাইসেন্স শাখার পুনরাবৃতি হয় কর শাখায়।এবারে তচ্ছরুপ হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা।পরপর ঘটনাগুলো সঠিক কোন বিচার না হওয়ায় পৌরসভার প্রত্যেকটি শাখায় এমন ঘটনা অহরহ ঘটার সংবাদ পাওয়া যায়।
পৌরসভার হরিলুটের উল্লেখ্যযোগ্যখাত প্রকৌশল শাখা,কর আদায় শাখা,লাইসেন্স শাখা ও কনজানভ্যান্সি কর্মকর্তার মাধ্যমে।
পৌরসভার নামে বরাদ্দকৃত টিআর,করোনাকালিন বিদেশি বরাদ্দ,জমি ক্রয়,ময়লা পরিস্কার,নর্দমা পরিস্কার,মাস্টাররোল ও দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক লেবার মারফত।আর এগুলো পাকাপোক্ত হাতে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন যাবৎ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কনজারবেটিক কর্মকর্তা,পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা ও হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা সমন্বয় চক্রটি।কনজারভ্যাটিব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা থেকে পরিস্কার-পরিছন্নের নামে মাসিক/সাপ্তাহিক অর্থ আদায়েরও।রাস্তা-ঘাট উন্নয়নের নামে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা,পৌর উপ-সহকারি প্রকৌশলী,হিসাব রক্ষন ও রোলার ড্রাইভার সমন্বয় চক্রটি।পৌর শহরে বাসা-বাড়ির প্লান করতে গুনতে হয় মোটা অংকের টাকা।ওই টাকার সিংহভাগ তছরুপ করে ওই শাখার নক্সাকার আর সার্ভেয়ার।একটি সুত্রে জানা যায়,নক্সাকারসহ তার পরিবারের ৫ জন একই পৌরসভায় কর্মরত।খোঁজ নিয়ে জানা যায়,নক্সাকার নিকটঅতিতে বাসা-বাড়িসহ প্রায় শত বিঘার জমির মালিক।সার্ভেয়ার নামে বে-নামে পৌর শহরে গড়ে তুলেছে একাধি বহুতল বিশিষ্ট নান্দনিক বাড়ি।বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীর রয়েছে একছত্র প্রভার।জালানি,সড়কবাতি,বিদ্যুতের লাইন সম্প্রসারনের নামে ভুয়া বিল-ভাউচের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমানের অর্থ।লাইসেন্স শাখা,কর শাখা,বাজার শাখা,নিবন্ধন-উদ্ধোক্তা শাখা আর সার্টিফিকেট শাখায় রয়েছে অনিয়ম আর অতিরিক্ত টাকা আদায়ের নিরব কান্না।
শ্রীপুর পৌরসভায় শুভঙ্করের ফাঁকি!
শ্রীপুর পৌরসভার রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে শ্রীপুর পৌরসভায় টাকা ছাড়া কোন নাগরিক সেবা পাওয়া যায় না। এমন নানান অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, নিয়োগ বানিজ্য, টেন্ডার বানিজ্য ও অর্থ আত্মসাৎসহ নানান অভিযোগের পাহাড় শ্রীপুর পৌরসভার বিরোদ্ধে।
(((নিয়োগ বানিজ্য)))
শ্রীপুর পৌরসভার সর্বশেষ নিয়োগের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালিন রাষ্ট্রীয় কঠোর লকডাউনের কারণে স্থানীয়দের জীবনযাপন সীমিত থাকার
সময় অত্যান্ত গোপনে বিভিন্ন পদের বিপরীতে লোক নিয়োগ দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। এমনকি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পৌর-১ শাখা হতে ৮টি পদের ছাড়পত্র নিয়ে নাকি শ্রীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ১০টি পদে অবৈধ লোক নিয়োগ সম্পন্ন করে। তৎকালীন বিভিন্ন ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে উক্ত নিয়োগের আপত্তির বিষয়টি জানতে চায় স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে কোন জবাব না দেওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ আব্দুর রহমান ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে পুনরায় প্রতিবেদন চেয়ে পত্র দেন। তবে উপসচিব আব্দুর রহমানের চাহিত প্রতিবেদনের বদলে শ্রীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নতুন করে আরো ১৭জন লোক নিয়োগের ছাড়পত্র চায়! পরে উক্ত নিয়োগের বিষয়েও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পৌর-১ শাখায় জহিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি কয়েক কোটি টাকার লেনদেনের লিখিত অভিযোগ করলে উক্ত নিয়োগ স্থগিত করে ১৩ জুলাই ২০২৩ তারিখে উপসচিব আব্দুর রহমান আরেকটি চিঠি দেয়। পাশাপাশি একই অভিযোগসূত্রে জানা যায়, যে উক্ত নিয়োগে পূর্বে পৌরসভায় মাষ্টাররোল চাকুরীজীবি সবুজ মিয়া প্রকৃত তথ্য গোপন করে ও নকল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে সরকারী চাকুরী গ্রহন করে। পরে বিষয়টির সত্যতা পেয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন( ইসি )দ্বৈত ভোটার হওয়ার অপরাধে গফরগাঁও থানায় ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর সবুজকে অভিযুক্ত করে ৫/২০২২ নং মামলা করলেও বহাল তবিয়তে রয়েছে উক্ত ব্যক্তি।
উল্লেখ্য ২০০৯ সালে শ্রীপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-১ মোঃ আব্দুল জলিল পৌরসভার কর্মচারী নিয়োগ সম্পর্কিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করলে তৎকালীন তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে মেয়রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের তদবির করে। এমতাবস্থায় সচেতন মহলের প্রশ্ন, শ্রীপুর পৌরসভায় পয়তাল্লিশজন সরকারি জনবলের পাশাপাশি মাস্টাররোলের কর্মচারীসহ প্রায় শতাধীক কর্মকর্তা কর্মচারী কর্মরত আছে। এদের আবার অনেকের নিজ দপ্তরে কাজ না থাকায় অন্য দপ্তরের সংযুক্ত রয়েছে। এরপরেও কেন অর্থ অপচয় করতে দফায় দফায় লোক নিয়োগ করতে হবে?
(((টেন্ডার বানিজ্য)))
শ্রীপুর পৌরসভার জনগন ভ্যাট, টেক্স ও কর প্রদান করে আর উন্নয়নের বদলে পৌর কর্তৃপক্ষ সেই অর্থ লোপাট করে! আর অর্থ লোপাটের অন্যতম কৌশল হচ্ছে কোটেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করা। শ্রীপর পৌরসভার বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, একটি চক্র অত্যান্ত সুকৌশলে টেন্ডারকৃত রাস্তায় পুনরায়( আরএফকিউ )রিকুয়েষ্ট ফর কোটেশনের মাধ্যমে কাজ করে গোপনে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের শ্রীপুর টু রাজাবাড়ি রাস্তা হতে সাবেক ইউএনও মরহুম রাসেদুল ইসলামের বাড়ী রাস্তাটি ই-টেন্ডারের জন্য
২০ ডিসেম্বর ২০২২ং তারিখে নোটিশ প্রদান করা হয়। এবং পরবর্তীতে ৭৬২৫৮৪,শ্রী/পৌ/রেব/২২-২৩/০৫ আইডির রাস্তার কার্পেটিং এর কাজ সম্পন্নও করা হয়। কিন্তু আর্শ্চযের বিষয়ে হলো উক্ত রাস্তার কাজের জন্য ইজিপি টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার তিন মাস পরই আবার শ্রীপুর পৌরসভার ২৪তম মাসিক সভায় ২৯/০৩/২০২৩ তারিখে একই রাস্তা দ্বিতীয়বার( ওভারল্যাপিং )পূর্ব লোহাগাছের মতিন মাষ্টারের বাড়ি হতে সরাফত মেম্বারের বাড়ী পর্যন্ত ইটের সলিং করে আরএফকিউ( রিকুয়েষ্ট ফর কোটেশন )কাজের বদলে বিল উত্তোলন করে সমাপ্ত করা হয় প্রকল্প।
(((নয়ছয়ের বাজেট)))
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা করে পাওয়া যায় ব্যাপক গরমিল। বাংলাদেশ নদী কমিশন ময়লা আবর্জনা পরিস্কার না করার দরুণ শ্রীপুর পৌরসভাকে একাধিকবার তাগাদাপত্র দেয়। কিন্তু শ্রীপুর পৌর কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় সবশেষ গত ৩০-৩-২০২৩ইং তারিখে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে শ্রীপুর পৌরসভার মেয়রকে অপসারণ করার অনুরোধ করলেও একই বছর শ্রীপুর পৌরসভা কর্তৃক দাখিলকৃত বাজেটে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার বাবদ( ২০২১-২২ )উনসত্তর লক্ষ তিপ্পান্ন )টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। আবার একই অর্থবছরে নর্দমা পরিস্কার( ড্রেন )পরিস্কার বাবদ ব্যয় করা হয়েছে পঁচানব্বই লক্ষ পয়তাল্লিশ হাজার ছয়শত টাকা। কিন্তু বাস্তবে রক্ষণাবক্ষণের অভাবে শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা এলাকার ড্রেনের অবস্থা অত্যান্ত নাজুক! আবার পৌর বাজেটে প্রায় তিন লক্ষ টাকার টিবওয়েল স্থাপন ব্যয় দেখানো হলেও একটিরও খবর জানেন না পৌরসভার কাউন্সিলররা! পাশাপাশি একই বছর পৌর পাঠাগারের বই প্রস্তুক ক্রয় করা হয়েছে পঞ্চাশ হাজার টাকার। কিন্তু বাস্তবে পৌর পাঠাগারের কোন নমুনা পাওয়া যায়নি সমগ্র পৌরসভায়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো ২০২১-২০২২ অর্থবছর অর্থাৎ বিগত বছরে “পৌর সুপার মার্কেট কাম মাল্টিপারপাস ভবন এর উর্ধমুখী সম্প্রসারণে” ব্যয় করা হয়েছে আশি লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ছয়শত পঁচাত্তর টাকা। কিন্তু সরেজমিনে সমগ্র শ্রীপুর পৌরসভা ঘুরে পাওয়া যায়নি এই ভবনের সন্ধান! তবে “পৌর সুপার মার্কেট কাম মাল্টিপারপাস ভবন” এর কোন অস্তিত্ব না মিললেও মিলেছে বিএমডিএফ( বাংলাদেশ মিউনিসিপল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড )এর ঋনের অস্তিত্ব! গত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বিএমডিএফ এর কিস্তি বাবদ শ্রীপুর পৌরসভা তিপ্পান্ন লক্ষ পয়ত্রিশ হাজার দুইশত চল্লিশ টাকা পরিশোধ করে। যদিও বিএমডিএফ এর শর্ত অনুযায়ী কথা ছিলো “পৌর সুপার মার্কেট কাম মাল্টিপারপাস ভবন” এর অর্জিত আয় থেকে এই ঋনের কিস্তি পরিশোধ করার। কিন্তু “পৌর সুপার মার্কেট কাম মাল্টিপারপাস ভবন” না থাকায় এই ঋনে দায় এখন বহন করছে পৌর নাগরিকগণ। এঅবস্থায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বিএমডিএফ এর ঋনের টাকা ও “পৌর সুপার মার্কেট কাম মাল্টিপারপাস ভবন” গেলো কোথায়? পৌরসভার বিশ্বস্ত এক সূত্রে জানা যায়, চমকপ্রদ তথ্য! পৌরসভার বর্তমান কার্যালয়ই নাকি “পৌর সুপার মার্কেট”! যার দাগ এসএঃ ৬১৭, আরএসঃ ৪৩২২, খতিয়ান নং এসএসঃ ৭৫৩, আরএসঃ ৪৯৭, জে,এল ৪৩ ওয়ার্ড ১, মৌজা শ্রীপুর( প্ল্যান অনুযায়ী )। “কিন্তু দুর্নীতির কারণে বাস্তবতা ভিন্ন”। অভিযোগ রয়েছে বিগত অর্থবছরে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা( সিও )সুমিত সাহা( পরিচিতি নং-১৮০০২ )থাকাকালীন শ্রীপুর পৌরসভার তহবিলে প্রায় সাত কোটি টাকা লোপাট করতেই উক্ত কর্মকর্তার বদলির মাত্র ছয়দিন পর অর্থাৎ ১৩ মার্চ ২০২৩ ইং তারিখ হতে ব্যাংক হতে টাকা উত্তোলন শুরু করে একটি চক্র! ফলে শ্রীপুর পৌরসভার কোথাও উন্নয়ন না হলেও শেষ হয়ে যায় শ্রীপুর পৌরসভার তহবিলের জমানো সকল টাকা।
শ্রীপুর পৌর বাজেটে রাজস্ব চুরি
একের পর এক অনিয়ম করে নিজেই নিজের রেকর্ড ভাংছে শ্রীপুর পৌরসভার কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি শ্রীপুর পৌরসভা তাদের বাৎষরিক বাজেট প্রকাশ করে। যাতে পৌরসভার আয় ব্যয়ের পাশাপাশি ভবির্ষত কর্মপরিকল্পনার বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়।
গত ৫ জুন বুধবার পৌরসভার হলরুমে বাজেট অধিবেশন
শ্রীপুর পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল হাসানের সঞ্চালনায় ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আঃ কুদ্দুস হাওলাদারের প্রস্তুতকৃত বাজেট উপস্থাপন করেন শ্রীপুর পৌরসভার তৎকালীন মেয়র মোঃ আনিসুর রহমান।
শ্রীপুর পৌরসভার বাজেট প্রস্তুতে কোন বিষেশঞ্জ বা অর্থনীতিবিদ,রাষ্ট্রবিঞ্জানী বা সমাজ বিঞ্জানীদের সমন্বয়ে করা হয়েছে কিনা তা অজানায় থেকে গেছে।তবে বিগত বছর কয়েকবছর বাজেট ঘোষনায় কতিপয় স্হানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক,হাতেগোনা রাজনীতি নেতা-কর্মি আর পৌরসভার লোকজনই বেশ ঘটা করে বাজেট ঘোষনায় উপস্হিত থেকেছেন।এবার (২০২৪-২০২৫অর্থবছর)ছিল ব্যতিক্রম ওইসব কাউকেই বলা হয়নি।বাজেট ঘোষনা অনুষ্ঠানে উপস্হিত রাখতে দায়িত্ব নিয়েছিলেন বর্তমান পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা।
গত ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে পৌরসভার বাজেট ঘোষনা করা হয়১১৮ কোটি টাকারও বেশী বিশাল বাজেটে সবচে অগ্রাধিকার দেয়া হয় শিক্ষা,স্বাস্হ্য ও ভৌত অবকাঠামো অর্থাৎ রাস্তা-ঘাট,ড্রেন,পানি,বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণ ও পৌর পার্ক নির্মানে।ফলে বাজেটে শ্রীপুরকে একটি মডেল পৌরসভায় রুপান্তরিত করারও আশা ব্যক্ত করা হয়।ওই অর্থবছরে পুরাবৃত্তি করা হয় ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেটে।এবার১৫০ কোটি টাকারও বেশী বাজেট ঘোষনা করা হয়েছে।সেবারের মত রাস্তা-ঘাট নির্মান,ডাম্পিং শ্টেশন ও পৌর পার্ক নির্মানে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।এ বিশাল বাজেটের মাধ্যমে একটি স্মার্ট পৌরসভা বিনির্মানে মেয়র মহোধয়ের বক্তব্যে সকলের সহযোগীতা চান।মেয়রের বিশাল বাজেট ঘোষনার মধ্য দিয়ে পৌর শহরকে আধুনিকায়ন করতে সদিচ্ছার কোন অভাব নেই।প্রশ্ন বিশাল এ বাজেটের টাকা যা কোথায়?প্রশ্ন গুলোর উত্তর জানতে এ প্রতিবেদক অনুসন্ধানে বিস্ময়কর নানা গোঁজামিলের তথ্য পান।অর্থবছর ২০২২-২০২৩এ নর্দমা,ময়লা-আবর্জনা ও দৈনিক ভিত্তিক হাজিরার কর্মচারীদের পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২কোটি ১৮লাখ টাকার উপরে।অর্থবছর ২০২৩-২০২৪এ বাড়িয়ে ২কোটি ৩০ লাখ টাকাও বেশী করা হয়।
অর্থবছর ২০২২-২০২৩ এ যানবাহন ক্রয়,মেরামত ও জ্বালানী বাবদ ব্যয় হয় ৩০ লাখ টাকা।অর্থবছর ২০২৩-২০২৪ এ এব্যায় বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা।
অর্থবছর ২০২২-২০২৩এ জাতীয় দিবস উদযাপনে ব্যয় হয় প্রায় ১৬ লাখ টাকার মত।অর্থবছর ২০২৩-২০২৪ এ ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ২০ লাখ টাকা।পৌরসভায় মাওনা চৌরাস্তা,শ্রীপুর বাজার ছাড়া তেমন কোন নর্দমা পৌর শহরে নেই।শ্রীপুর বাজার,মাওনা চৌরাস্তা,মাওনা বাজার রোড,গড়গড়িয়া মাস্টার বাড়ি ও আশপাশ এলাকা ১নং ও ২নং সি এন্ড বি বাজার এবং ৮নং ও ৯নং ওয়ার্ডের বাজার ছাড়া বিশাল এ পৌরসভার ভেতরে ময়লা-আবর্জনা জমিয়ে রাখার কোন পরিবেশ খুব বেশি নেই।উল্লেখিত বাজার গুলোতে মাঝে মধ্যে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কর্মি দিয়ে নামমাত্র পরিস্কার রাখা হয় বলে পৌর নাগরিকরা জানান।গত বছর গুলোতে ড্রেন-নর্দমা পরিস্কার রাখার কোন কার্যক্রর পদক্ষেপ পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ হতে নেয়া হয়েছে সচেতন মহলের চোখে পড়েনি।মাওনা চৌরাস্তায় বসবাসকারী ও চলাচলকারিরা বার মাস বিষাক্ত ও দুর্গন্ধময় পানি নিয়ে বসবাস করে আসছে।শ্রীপুর সদরে শ্রীপুর চৌরাস্তার যানজট নিরসনে পৌরসভার কোন উদ্যোগ না নেয়ায় পৌরসভার বাজেট নিয়ে অনেকেই গোঁজামিল আর লুটপাটের বাজেট বলে মন্তব্য করছেন।
নিকটঅতিতে পৌরসভার নামে কোন নতুন গাড়ি ক্রয় করা হয়েছে কিনা আদৌ কেউ জানে কিনা সে ব্যাপারেও প্রশ্ন রয়েছে।প্রশ্ন রয়েছে আসবাবপত্র ক্রয়েও।তবে গত অর্থবছর ২০২২-২০২৩ এ আসবাবপত্র ক্রয়ে ব্যয় হয় ১০ লাখ টাকা এ অর্থবছরেও ১০ লাখ টাকা।যানবাহন ক্রয়,মেরামত না হলেও অনুমতি ছাড়াই প্রধান পৌর নির্বাহীর (সিইও)জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ী নিয়ে পৌর নির্বাহী হরহামেশা নিজ বাড়ি জামালপুর সহ ঢাকা ও গাজীপুরে যাতায়াত চোখে পড়ার মত।উন্নয়নের নামে রাস্তা-ঘাট মেরামত/সংস্কারের মোটা অংকের বাজেট ৫কোটি থেকে বাড়িয়ে ১০ কোটি করা হলেও ওই দুর্নীতিগ্রস্হ সিন্ডিকেট চক্রগুলোর কাছে উন্নয়নের মুখ থুবড়ে যায়।ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে চালান হরিলুট।
অর্থবছর(২০২৪-২০২৫) বাজেট ফরম-খ এর( ক )রাজস্ব হিসাব, উপাংশ-১ এর ১৭ নং ক্রমিকে উল্লেখ্য করা গতবছর অর্থাৎ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে “বিএমডিএফ এর ঋনের কিস্তি” বাবদ বাহাত্তর লক্ষ বিরান্নব্বই হাজার নয় টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
কিন্তু বিএমডিএফ টাকা না পেয়ে গতবছর ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে বিএমডিএফ/এল-০৬( অংশ-২ )/২০১২/৪২০ নং স্মারকের পত্রের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের পৌর-১ শাখায় একটি চিঠি দেয়। যাতে উল্লেখ্য করা হয়, বিএমডিএফ কর্তৃক অর্থায়নকৃত পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন সমূহের মধ্যে যে সকল পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনের নিকট ১-এর অধিক ঋনের কিস্তি অনাদায়ী হয়েছে তার একটি হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। উক্ত তালিকায় ৭৩ নাম্বারে শ্রীপুর পৌরসভার নাম রয়েছে।
এবিষয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, বিএমডিএফ এর কিস্তি না দিলে বাজেটের উল্লেখিত টাকা গেলো কোথায়? আবার কিস্তি প্রদান করলে বিএমডিএফ এর ১২৪ তম সভায় শ্রীপুর পৌরসভাকে “ঋনের কিস্তি খেলাপী” উল্লেখ্য করা হলো কেন?
অসংগতিপুর্ন বাজেট সম্পর্কে শ্রীপুর পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আঃ কুদ্দুস হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে,বাজেট সম্পর্কে এ প্রতিবেদক বাজেট বহিতে লিপিবদ্ধ ব্যায়,ঘোষিত বাজেট ও প্রস্তাবিত বাজেট কলামে উল্লেখ্যিত ব্যায়ের হিসাব মিলিয়ে দিয়ে বিদায় দেন এবং কোন খাতে কত ব্যায় হয় তা আমার জানা নেই সংশ্ণিষ্ট শাখা হতে হিসাব মিলাতে হবে।বাজেট প্রস্তুতে কোন কমিটি আছে কিনা বা প্রস্তুতে প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করলে আমতা আমতা করে বলেন কমিটি রয়েছে বিস্তারিত পৌর নির্বাহী ভালো বলতে পারবেন।