মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিজয়ে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাজউক কর্মকর্তা গ্রেফতার: নারী সাংবাদিক হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় জামায়াতের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত Without Classrooms, Education Remains Incomplete* *—-Professor M A Barnik শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়ে প্রকৃত মানুষ তৈরি অসম্ভব* *—–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* A Voice of Principle in Parliament Barrister Nowshad Zamir—Professor M. A. Barnik ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা –অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

নবীনগরে প্রথমবার আবাদ হলো উচ্চফলনশীল বারি সরিষা–২০

সংবাদদাতা / ১০৯ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন

ইব্রাহীম খলিল,

নবীনগর( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় সরিষা উৎপাদনে জেলায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। উপজেলাজুড়ে প্রায় ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়ে থাকে।

এ মৌসুমে প্রথমবারের মতো উপজেলায় আবাদ হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ও উন্নত জাতের বারি সরিষা–২০, যা কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
দেশে ভোজ্যতেল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্ভাবিত এ জাতটি স্বল্পমেয়াদি, উচ্চ ফলনশীল ও রোগ সহনশীল হওয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বারি সরিষা–২০ এর জীবনকাল মাত্র ৮৫–৯০ দিন। আমন ধান কাটার পর পতিত জমিতে এ সরিষা চাষ করা সম্ভব হওয়ায় একই জমিতে বাড়তি ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
এই জাত থেকে প্রতি হেক্টরে গড়ে ২ থেকে ২.২ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়, যা প্রচলিত অনেক জাতের তুলনায় ১৫–২০ শতাংশ বেশি। বীজে তেলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বাজারেও এর চাহিদা ভালো। পাশাপাশি এটি লিফ ব্লাইটসহ বিভিন্ন সাধারণ রোগের বিরুদ্ধে সহনশীল এবং কম সেচে ভালো ফলন দিতে সক্ষম, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এটিকে আরও উপযোগী করে তুলেছে।

উপজেলায় প্রথমবারের মতো দশ বিঘা জমিতে কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় বারি সরিষা–২০ এর প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, বারি সরিষা–২০ গাছের উচ্চতা, শুঁটির সংখ্যা ও গাছের দৃঢ়তা অন্যান্য জাত যেমন বারি সরিষা–১৪, বারি সরিষা–১৭ ও বিনা সরিষা–৪ এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

বিটঘর ইউনিয়নের কৃষক সুমি আক্তার বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস ও উপসহকারী কৃষি অফিসার মহিউদ্দিন রিপনের সহযোগিতায় তিনি এ জাতের প্রদর্শনী গ্রহণ করেন। মাঠের বর্তমান অবস্থা দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকরাও বীজ সংরক্ষণে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তিনি আশা করছেন, প্রতি বিঘায় প্রায় ৭ মণ ফলন পাওয়া যাবে।

উপসহকারী কৃষি অফিসার মহিউদ্দিন রিপন জানান, বারি সরিষা–২০ জাতের পরিচর্যা তুলনামূলক কম লাগে, গাছ শক্ত ও শুঁটির সংখ্যা বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমে এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি। আগামী মৌসুমে এ জাতের আবাদ আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।

নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, কৃষকদের মধ্যে নতুন জাতের সরিষা সম্প্রসারণে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে দশ বিঘায় আবাদ হলেও আগামী মৌসুমে ৫০০ বিঘা জমিতে বারি সরিষা–২০ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বীজ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, বারি সরিষা–২০ এর জমি পরিদর্শনে দেখা গেছে শুঁটির সংখ্যা অত্যন্ত সন্তোষজনক। রোগবালাই মুক্ত চাষ, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা ও হালকা সেচ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ জাত দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনী প্লট স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষণ ও উন্নত বীজ সরবরাহের মাধ্যমে বারি সরিষা–২০ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, এ জাতের আবাদ বৃদ্ধি পেলে দেশে ভোজ্যতেল আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]