শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ন

শিরোনাম
গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরিসহ ৫ দফা দাবিতে মিরপুরে বিক্ষোভ চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসির ফল জালিয়াতি, পরীক্ষার্থীসহ তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা BIG-B: Bangladesh’s Economic Potential and Japan’s Strategic Interest* *– Professor M. A. Barnik *BIG-B: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও জাপানের কৌশলগত আগ্রহ* *–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* গ্লোবাল এমআইএল উইকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় স্থান অর্জন আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মিত হবে – যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী রক্তে ভেজা ২৮ অক্টোবর উপলক্ষে মাগুরায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের “৯৬” ব্যাচের গেট টুগেদার অনুষ্ঠিত মাগুরার আলোচিত যুবদল নেতা শাকের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামীকে ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত মাগুরায় বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন!!

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসির ফল জালিয়াতি, পরীক্ষার্থীসহ তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা

সংবাদদাতা / ১৫ বার ভিউ
সময়ঃ শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ন

১০ বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে নম্বর বাড়িয়ে পাস করানোর অভিযোগ, তদন্তে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ অনিয়ম

আলো | নিউজ ডেক্সঃ 

চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল পরিবর্তন করে নম্বর জালিয়াতির অভিযোগে এক পরীক্ষার্থীসহ বোর্ডের কম্পিউটার সেলের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দুই বিষয়ে শূন্যসহ মোট ১০ বিষয়ে অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থীকে অবৈধভাবে নম্বর বাড়িয়ে পাস করানোর অভিযোগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন।

মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪৭৭(ক) ধারা এবং পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০-এর ৫, ৬, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিল ওই শিক্ষার্থী। এ সময় পুনর্নিরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের মূল উত্তরপত্রের নম্বরের সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেল থেকে সরবরাহ করা প্রিন্ট করা নম্বরপত্রের ব্যাপক অসংগতি খুঁজে পান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আনা হলে বোর্ডের একজন প্রোগ্রামার তথ্য যাচাই করে নম্বর পরিবর্তনের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তদন্তে শিক্ষার্থীর ১১টি বিষয়ের সৃজনশীল অংশের নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে বাংলার প্রথম পত্রে ২৩ নম্বরকে ৩৩ এবং দ্বিতীয় পত্রে ২৪ নম্বরকে ৬২ করা হয়। ইংরেজির প্রথম পত্রে ৩৩ থেকে ৮৩ এবং দ্বিতীয় পত্রে ২০ থেকে ৮২ নম্বর দেখানো হয়। গণিতে ৯ থেকে ৬৬, ইসলাম শিক্ষায় ৭ থেকে ৬৪, উচ্চতর গণিতে শূন্য থেকে ৪৬, পদার্থবিজ্ঞানে শূন্য থেকে ৪৫, রসায়নে ১ থেকে ৪৬, জীববিজ্ঞানে ১ থেকে ৪৬ এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৪ থেকে ৬৫ নম্বর করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীর প্ররোচনায় এবং শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের সংশ্লিষ্ট তিন কর্মচারীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে এ জালিয়াতি সংঘটিত হয়। পারস্পরিক যোগসাজশে প্রকৃত নম্বর পরিবর্তন করে বাড়তি নম্বর সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত ফলাফল অনলাইনে প্রকাশ করা হয় বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

এজাহারের তথ্যমতে, ফলাফলে অসংগতি শনাক্ত হওয়ার পর শিক্ষার্থীর ফলাফল স্থগিত করা হয়। গত ১৫ অক্টোবর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বোর্ড কর্তৃপক্ষ। ২৬ অক্টোবর শিক্ষার্থী নোটিশের জবাব দিলেও তা কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। পরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা বোর্ড।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ফল জালিয়াতির পুরোনো অভিযোগ

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার ফলাফল ও পুনর্নিরীক্ষণসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গত বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের সময় ৩৪টি উত্তরপত্রের নম্বর পরিবর্তন করে বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শিক্ষা বোর্ডে অভিযান পরিচালনা করে। পাশাপাশি বোর্ড কর্তৃপক্ষও তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সে সময় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথের ছেলের পরীক্ষার খাতায় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নগরীর একটি বেসরকারি কলেজ থেকে অংশ নিয়েছিলেন নারায়ণ চন্দ্রের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ। পরবর্তী সময়ে তার জিপিএ-৫ পাওয়া নিয়ে কয়েকজন শিক্ষক প্রশ্ন তোলেন। বিষয়টি আলোচনায় এলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড নক্ষত্র দেবনাথের ফলাফল বাতিল করে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক সচিবের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। পরবর্তী সময়ে মামলা দায়েরের পর অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরপর এমন ঘটনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও প্রকাশের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]