মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক (গোদাগাড়ী) রাজশাহী :-
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে লাখো ভক্তের পদচারণায় চলছে নরোত্তম দাস ঠাকুর’র তিরোভাব মহোৎসব। নিরাপত্তা দিতে তৎপর ৫ শতাধিক প্রশাসনিক সদস্য । প্রতি বছরের বাংলা কার্তিক মাসের প্রথম তিন দিন ভক্তদের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে বৈষ্ণব ধর্মাচারে বিশ্বাসী দেশ-বিদেশের সন্ন্যাসভক্তদের পদচারণ আর অষ্টপ্রহর কীর্তন।

প্রসাদ গ্রহণ-সহ চলে নানা ধর্মীও আচার অনুষ্ঠান। তৃতীয় দিন ভক্তদের গঙ্গাস্নানের পর দীর্ঘ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় তিরোভাব মহোৎসব। তিরোভাব উৎসবকে ঘিরে চলে মেলার আয়োজন। মেলায় ধর্মীও উপকরণ থেকে শুরু করে সৌখিন ও বাহারী খাদ্য সামগ্রী, পোশাক, ব্যবহার্য, গৃহস্থালি, কারু-চারু, কামার-কুমারের তৈরী পণ্য সহ থাকে সবধরনের সমাহার।

লাখো ভক্তদের পদচারণা থাকায় থাকে ভোগান্তিও। গরমে পানি শুন্যতা, খাবারের কষ্ট, অসুস্থতাও ঘিরে ধরে ভক্তদের। এসব ভোগান্তি কাটাতে রাজশাহী -১ ( গোদাগাড়ী -তানোর) আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশি সুলতানুল ইসলাম তারেক গ্রহণ করেছেন নানামুখী উদ্যোগ। উৎসবে আগত ভক্তদের জন্য ডাক্তার, অ্যাম্বুলেন্স, খাবার, পানি, সেলাইন বুথ খুলে নিজ উদ্যোগে সরবরাহ করছেন এই শিল্পপতি। সাংবাদিকদের আলাদা বসার স্থান, প্রশাসনের বসার ব্যবস্থাও করেছেন এই নেতা। তার নির্বাচনী এলাকা (তানোর- গোদাগাড়ি) ধামে নগদ টাকা এবং ১৪৪ টি উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য তিনি তার ছোট ভাইকে খোঁজ নিতে নির্দেশ দেন। তিনি মনে করেন এটা হিন্দু সম্প্রদায়ের একান্ত ব্যক্তিগত পূজা অর্চনার স্থান। দূর্গা পূজার মত সার্বজনীন নয়। ধাম পরিদর্শনে গেলে নেতাকর্মীদের ভীর হওয়ার সম্ভাবনায় তিনি পরিদর্শনে না গিয়ে বাড়ির পাশে বুথ খুলে এই সহায়তা বিতরণ তারেক।
শনিবার (১১ অক্টোবর) উপজেলার প্রেমতলীর খেতুরীধামে নিজ উদ্যোগে এ ধরনের মানবিক সহায়তা বিতরণ করেন সুলতানুল ইসলাম তারেক।
তিনি বলেন,সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ অঞ্চলের সমাজ-সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমি যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে তাদের ধর্মীয় নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি নিয়োগ দেব, যিনি সব সময় তাদের পাশে থাকবেন।
উল্লেখ্য, নরোত্তম দাস ঠাকুর অহিংসার মহান সাধক ছিলেন। সনাতন হিন্দু বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে সমাজে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানবসেবার কাজ করেছেন তিনি। ১৫৩১ খ্রিস্টাব্দে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী পদ্মাতীরের গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মৃত্যুবরণ করেন ১৬১১ খ্রিস্টাব্দে প্রেমতলী খেতুরধামে। নরোত্তম দাস ঠাকুরের বাবা ছিলেন জমিদার কৃষ্ণনন্দ দাস মজুমদার। ধনী বাবার একমাত্র সন্তান হওয়া সত্ত্বেও ঐশ্বর্য তার জীবনে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারেনি। তিনি ছোটবেলা থেকেই ধর্মপরায়ণ, সংসার বৈরাগী ও উদাসীন প্রকৃতির ছিলেন। ঠাকুর নরোত্তম দাসের বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার, সমাজ সংস্কার ও মানবসেবার কাছে হার মানে সমাজের ধনী, ভূ-স্বামী, দুর্দান্ত নরঘাতক, ডাকাত সবাই তার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়েছিলেন। জীবদ্দশায় নরোত্তম দাস নিজ গ্রাম গোপালপুরের সন্নিকটে খেতুরীতে আশ্রম নির্মাণ করে ধর্মসাধনায় নিয়োজিত ছিলেন। এখানে তিনি প্রায় সাধারণ বেশে অবস্থান করেছিলেন। বাবার অনুরোধ উপেক্ষা করে, বিলাস পরিত্যাগ করে তিনি স্থানীয় কৃষ্ণমন্দিরে প্রায় সন্ন্যাসীর জীবনযাপন করেছিলেন।