মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু– বরেন্দ্র প্রেস ক্লাব সভাপতিকে ছুরিকাঘাতে  হত্যাচেষ্টা: আসামী সুরুজ আলী কারাগারে একজন রাষ্ট্রপতির সন্ধানে: কেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ হতে পারেন সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* চকবাজার থানা কমিটি কর্তৃক সাইবার ইউজার দলের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গুজব/তথ্য সন্ত্রাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল *নুরুন্নাহার ইভা: এক সাহসী ফটোসাংবাদিকের নীরব কান্নার দিনলিপি* *—অধ্যাপক এমএ বার্ণিক* মাগুরায় জুলাই গণ অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে জামায়াতের মতবিনিময় সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামীর মৃত্যু মাগুরায় ভাই ভাই বেকারীকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা ও দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার! তরুণ রেস্টুরেন্ট উদ্যেক্তা এস. আলম আলভির উদ্যাগে শহরে প্রথম প্যান এশিয়ান রেস্টুরেন্ট ‘নাযা’ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের জাতীয় পর্ব শুরু: ‘খেলাধুলাই পারে জাতিকে এক সুতোয় গাঁথতে’- প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

একজন রাষ্ট্রপতির সন্ধানে: কেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ হতে পারেন সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

সংবাদদাতা / ৯ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

একটি রাষ্ট্রের শক্তি কেবল তার অর্থনীতি, সামরিক সক্ষমতা কিংবা রাজনৈতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর নির্ভর করে না; তার প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা এবং জাতীয় ঐকমত্যের সংস্কৃতিতে। আর সেই কারণেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক পরিপক্বতা এবং ভবিষ্যৎ অভিমুখ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

বাংলাদেশ আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি জাতীয় সমন্বয়, প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা এবং সংবিধানের মর্যাদা রক্ষাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজন ব্যক্তিত্ব প্রয়োজন, যিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের প্রতীক হিসেবে সকল নাগরিকের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি কোনো নির্বাহী সরকারের প্রধান নন; তিনি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বিবেকের প্রতীক। তাই এই পদে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সংযম, অভিজ্ঞতা, বিচারবোধ এবং রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞা। যে ব্যক্তি দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে রাষ্ট্রযন্ত্রের কার্যক্রম, আইনের শাসন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকেছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ হতে পারে।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্বের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিয়েছে। দায়িত্বের এই ধারাবাহিকতাকে সাংবিধানিকভাবে পূর্ণতা দেওয়া হলে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার একটি ইতিবাচক বার্তা যেতে পারে। ক্ষমতার ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিরতা অনেক সময় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক হয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হওয়া উচিত গ্রহণযোগ্যতা। একজন রাষ্ট্রপতি তখনই সফল হন, যখন সরকার ও বিরোধী পক্ষ—উভয়েই তাঁকে সংবিধানের নিরপেক্ষ রক্ষক হিসেবে দেখতে পারেন। রাষ্ট্রপতি যদি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশে পরিণত হন, তবে তাঁর সাংবিধানিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিপরীতে, যিনি সংযত, অভিজ্ঞ এবং রাষ্ট্রীয় আচরণে পরিমিত, তিনি ঐকমত্যের পরিবেশ গড়ে তুলতে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্ষম হতে পারেন।

রাষ্ট্রপতির অন্যতম দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা। এ দায়িত্ব পালনে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রজ্ঞা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাষ্ট্র পরিচালনা আবেগ দিয়ে নয়, বরং সংবিধান, আইন এবং প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক রীতিনীতির আলোকে পরিচালিত হয়।

আজকের বিশ্বে একটি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি অনেকাংশে নির্ভর করে তার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতার ওপর। অভিজ্ঞ, সংযমী ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিপক্ব একজন রাষ্ট্রপতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিপক্বতার প্রতীক হয়ে উঠতে পারেন।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে যদি রাজনৈতিক বিজয়-পরাজয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের আলোকে দেখা যায়, তবে জাতীয় রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটতে পারে। এমন সংস্কৃতি, যেখানে ব্যক্তি নয়—প্রতিষ্ঠান বড়; দল নয়—রাষ্ট্র বড়; ক্ষমতা নয়—সংবিধান বড়।

অবশ্যই, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমেই এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। তাই হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতি হবেন কি না, তা শেষ পর্যন্ত সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তবে যদি রাষ্ট্রের প্রয়োজন হয় একজন অভিজ্ঞ, সংযত, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিপক্ব এবং সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিত্বের, তাহলে তাঁর প্রার্থিতা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হওয়ার মতো একটি নীতিগত অবস্থান হতে পারে।

উপসংহারে বলা যায় যে,
রাষ্ট্রপতির আসন ক্ষমতার নয়, প্রজ্ঞার; প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়, প্রজাতন্ত্রের; ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার নয়, সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অভিযাত্রা যদি আরও সুদৃঢ়, স্থিতিশীল এবং প্রতিষ্ঠাননির্ভর হতে চায়, তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও সেই দর্শনের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রের ইতিহাসে কিছু সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক লাভের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাষ্ট্রচিন্তার জন্য নেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন তেমনই একটি সিদ্ধান্ত। সেই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে যদি অভিজ্ঞতা, সংযম, সাংবিধানিক আনুগত্য এবং জাতীয় গ্রহণযোগ্যতা স্থান পায়, তবে তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে আরও পরিণত ও মর্যাদাবান করে তুলবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]