বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন
মাহাবুব তালুকদার, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ ফাঁকা রেখে চিকিৎসকদের অভ্যন্তরীণ সভা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসার পর দ্রুত চিকিৎসার পরিবর্তে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় দায়িত্বরত কোনো চিকিৎসককে জরুরি বিভাগে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির পর জানা যায়, তারা হাসপাতালের একটি অভ্যন্তরীণ মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকদের সভা চলাকালে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল। এতে রোগীর স্বজনরা উৎকণ্ঠায় পড়েন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এ বিষয়ে এক রোগীর স্বজন বলেন, “জরুরি বিভাগে এসেও যদি চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ।”
হাসপাতালে উপস্থিত আরও কয়েকজন জানান, জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের দাবি, প্রশাসনিক সভা চললেও জরুরি বিভাগে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। এ ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাঈম মো. ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, “চিকিৎসকদের নিয়ে জরুরি মিটিং ছিল। আমি এখনই তাদের পাঠিয়ে দিচ্ছি।”
এ ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে জরুরি বিভাগে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা বা দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ থাকা উচিত নয়।